কেন যোগ্য ব্যক্তিরা চাকুরী ছাড়েন?
ডেক্স নিউজ
বাংলাদেশে কর্পোরেট কালচারে প্রতিদিনই হাজারো ট্যালেন্টেড কর্মী হতাশ হয়ে চাকরি ছেড়ে দেন। মজার ব্যাপার হলো—বসরা প্রায়ই মনে করেন ভালো সুযোগ পেয়েছে বলে চলে গেছে। অথচ আসল কারণগুলো বসের সামনেই থাকে কিন্তু তারা তা বোঝেন না বা বুঝতে চেষ্টা করেন না। নিচে সেই আসল আটটি কারণগুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেছেন দীর্ঘ ২০ বছরের মাল্টিন্যাশনাল, গ্লোবাল ও ন্যাশনাল কোম্পানির জবের অভিজ্ঞতা প্রাপ্ত নিজাম আকন্দ। যিনি তাঁর দুই দশকের কর্মজীবনে অসাধারণ পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে অর্জন করেছেন ন্যাশনাল, রিজিওনাল এবং গ্লোবাল পর্যায়ের প্রায় ১৫টি সম্মানজনক পুরস্কার। যার মধ্যে রয়েছে আউটস্ট্যান্ডিং বিজনেস গ্রোথ এবং গ্রেট লিডার পুরস্কার। আর এই সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন মনিরুল ইসলাম।
১. সঠিক ট্রিটমেন্ট না করা:
অফিসে যদি প্রিয় পাত্রদের জন্য আলাদা সুবিধা থাকে। আবার অন্যদের জন্য কড়া নিয়ম তাহলে সেটাকে ফেয়ার কালচার বলা যায় না। অন্যায় আচরণ দেখলেই কর্মীরা বুঝে যান যে এখানে থাকলে আমি কখনোই ন্যায্য মূল্য পাবো না।
২. সামর্থ্য অনুয়ায়ী বেতন না দেওয়া:
বাংলাদেশে অনেক কর্পোরেট কোম্পানিতেই বেতন বৃদ্ধি বা কর্মীর যোগ্যতার সাথে তাল মেলাতে পারে না। ট্যালেন্ট ধরে রাখার সবচেয়ে বড় উপায় হলো সঠিক বেতন। কিন্তু সেটা না পেলে ভালো সুযোগের সন্ধানে কর্মীরা দ্রুত অন্য প্রতিষ্ঠানে চলে যান।
৩. অসহনীয় কাজের চাপ:
ওভারলোডেড কাজ, অযৌক্তিক ডেডলাইন এবং সবসময় চাপের মধ্যে রাখা মূলত এসবের কারণে কর্মীরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। কাজের প্রতি ভালোবাসা থাকলেও অসহনীয় চাপ শেষমেশ রেজিগনেশনের পথে ঠেলে দেয়।
৪. বাজে ওয়ার্ক কালচার:
অফিসে যদি সহকর্মীদের মধ্যে সহযোগিতা না থাকে বস যদি সবসময় গালাগালি করেন বা অপমান করেন, আর টিমওয়ার্ক যদি শুধু কথার কথা হয় তাহলে সেটাকে বলে টক্সিক কালচার। আর এই ধরনের কালচারে ট্যালেন্ট টিকে থাকতে চায় না।
৫. উন্নতির সুযোগ না থাকা:
বছরের পর বছর কাজ করেও যদি পদোন্নতির সুযোগ না আসে তাহলে এমপ্লয়িরা হতাশ হয়ে পড়েন। ক্যারিয়ার গ্রোথ না থাকলে মেধাবীরা বুঝে যান এখানে থাকলে আমি পিছিয়ে যাবো। তাই তারা নতুন সুযোগ খোঁজেন।
৬. মাইক্রোম্যানেজিং বস:
যে বস প্রতিটা কাজ খুঁটিনাটি চেক করতে থাকেন বিশ্বাস দেখাতে পারেন না। স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেন না। সে বসের অধীনে কাজ করতে অনেকেই রাজি থাকেন না। মাইক্রোম্যানেজমেন্ট ট্যালেন্ট ধ্বংস করে দেয়।
৭. ভালো কাজ করেও প্রশংসা হয় না:
ভালো কাজ করলেও যদি প্রশংসা না হয়। ভালো রেজাল্ট দেখিয়েও যদি কেউ অদৃশ্য কর্মী হয়ে থাকেন তাহলে একসময় সেই এমপ্লয়ি বুঝে যান যে আমার কষ্ট কেউ দেখছে না। আর এই অদেখা কষ্টই তাকে চাকরি ছাড়ার পথে নিয়ে যায়।
৮. কর্পোরেট নোংরা পলিটিক্স:
অফিসে যারা কাজের চেয়ে রাজনীতি বেশি করে তারা আস্তে আস্তে ট্যালেন্টেড এমপ্লয়িদের দূরে সরিয়ে দেয়। যোগ্য কর্মী রাজনীতিতে জড়াতে চান না। বরং তারা চান কাজের স্বীকৃতি। কিন্তু পলিটিক্স যদি নীতির চেয়ে বড় হয় তখন মেধাবীরা বিদায় বলতেই বাধ্য হন।
পরিশেষে নিজাম আকন্দ আরও বলেন- কর্মীরা শুধু টাকার জন্য চাকরি ছাড়েন না। তারা ছাড়েন অন্যায়, টক্সিক কালচার, অবমূল্যায়ন এবং অন্যায্য সিস্টেমের কারণে। একজন ভালো বস যদি সত্যিই ট্যালেন্ট ধরে রাখতে চান তাহলে উপরিউক্ত বিষয়গুলো অবশ্যই অবশ্যই খেয়াল রাখা জরুরি।