প্রতিবেদক: মো. ইসমাঈল হোসেন, জেলা প্রতিনিধি
রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার ডাইংপাড়া মোড়ে পোস্টার ও ব্যানার অপসারণকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে ডাইংপাড়া মোড়ে পৌরসভার কর্মীরা স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পোস্টার ও ফেস্টুন অপসারণ করেন। এ ঘটনাকে ঘিরে গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক ফয়সাল আহমেদকে মুঠোফোনে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিএনপির এক সাবেক নেতা কে এম জুয়েলের বিরুদ্ধে। তাঁদের ফোনালাপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে এবং ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
কে এম জুয়েল রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাবেক বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক এবং রিশিকুল এলাকার বাসিন্দা। অডিও বার্তায় তাঁকে ইউএনওর সঙ্গে উচ্চস্বরে কথা বলতে ও হুমকিস্বরূপ মন্তব্য করতে শোনা যায়, যেখানে তিনি বলেন, ‘আপনার বিরুদ্ধে যেটা করা দরকার, সেটাই করব।’
এ বিষয়ে ইউএনও ফয়সাল আহমেদ প্রথম আলোকে জানান, “সড়ক বিভাজকে লাগানো অতিরিক্ত ব্যানার ও পোস্টার যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছিল এবং পৌরসভার সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছিল। স্থানীয় জনসাধারণের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মৌখিক ও লিখিত নোটিশের মাধ্যমে পোস্টার সরাতে বলা হয়। এরপর পৌরসভার কর্মীদের মাধ্যমে সবধরনের ব্যানার ও ফেস্টুন অপসারণ করা হয়। শুধুমাত্র রাজনৈতিক নয়, অন্যান্য পোস্টারও সরানো হয়েছে।”
অন্যদিকে কে এম জুয়েল দাবি করেন, “আমার পোস্টার নয়, আমার নেতার ছবি সরানো হয়েছে—এতে আমার আপত্তি রয়েছে।”
এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে গোদাগাড়ী উপজেলার বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ইউএনও ফয়সাল আহমেদের পক্ষেই অবস্থান নিয়েছেন। তাঁদের মতে, ইউএনও ফয়সাল আহমেদ গোদাগাড়ীর সার্বিক উন্নয়ন, শিক্ষা, খেলাধুলা, এবং মাদকবিরোধী কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন। তাঁরা বলেন, শহরের সৌন্দর্য রক্ষা ও ফুটপাত দখল উচ্ছেদে তাঁর পদক্ষেপ অত্যন্ত সময়োপযোগী এবং জনকল্যাণমুখী।
শিক্ষার্থীরা আরও জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরেই গোদাগাড়ী শহরে অবৈধভাবে লাগানো পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুন অপসারণ এবং ফুটপাত দখলমুক্ত করার দাবি জানিয়ে আসছিলেন। ইউএনও সেই দাবি বাস্তবায়ন করেছেন, যা সাধারন মানুষের মধ্যে প্রশংসা এবং স্বস্তির অনুভূতি সৃষ্টি করেছে।
তাঁদের দাবি, একটি সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন গোদাগাড়ী গড়ে তুলতে প্রশাসনের এমন পদক্ষেপ অব্যাহত থাকুক।